খামেনির বার্তা: ‘আমেরিকাকে কড়া জবাব দিয়েছে ইরান’
ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় ভয়াবহ ক্ষতি, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রশংসায় জার্মানি: খামেনির কড়া বার্তা
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়েছে এই আশঙ্কায় যে, তা না হলে ইহুদিবাদী শাসনব্যবস্থা (ইসরায়েল) ধ্বংস হয়ে যেত। এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, এই যুদ্ধে কোনো সাফল্য পায়নি যুক্তরাষ্ট্র; বরং ইরান তাদের মুখে “এক কঠিন থাপ্পড়” মেরেছে।
এক ইংরেজি বার্তায় খামেনি বলেন, “ইসলামী প্রজাতন্ত্র আমেরিকার মুখে একটি শক্ত থাপ্পড় দিয়েছে।” তিনি বলেন, ইরানি জাতি ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়িয়েছে, ৯ কোটি মানুষের সম্মিলিত অবস্থান ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বিজয় এনেছে। “ইরানি জাতি আবারও প্রমাণ করেছে— প্রয়োজন হলে তারা এক কণ্ঠে কথা বলবে,” বলেন তিনি।
সিআইএর দাবি: ইরানের পরমাণু স্থাপনায় ‘গুরুতর ক্ষতি’
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর পরিচালক জন র্যাটক্লিফ দাবি করেছেন, সাম্প্রতিক মার্কিন হামলায় ইরানের পরমাণু স্থাপনাগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি কয়েক বছর পিছিয়ে গেছে।
এই বক্তব্য আসে একদিন পর, যখন ফাঁস হওয়া একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, হামলার পরও ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো মূলত অক্ষত রয়েছে। ওই ফাঁসকে কেন্দ্র করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন এবং পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, “ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।”
আইএইএ’র সাথে সহযোগিতা স্থগিতের সিদ্ধান্ত
ইরানের গার্ডিয়ান কাউন্সিল দেশটির পার্লামেন্টে পাশ হওয়া একটি প্রস্তাব অনুমোদন করেছে, যাতে আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (IAEA)-এর সঙ্গে সহযোগিতা স্থগিত করার কথা বলা হয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, যদি পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত না হয়, তবে নজরদারি ক্যামেরা স্থাপন, পরিদর্শন ও অন্যান্য পর্যবেক্ষণমূলক কার্যক্রম স্থগিত থাকবে।
ইসরায়েল-মার্কিন হামলায় জার্মানির সমর্থন
জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ সমালোচনার যোগ্য নয়। তিনি জানান, “এটি ঝুঁকিপূর্ণ হলেও, চুপ করে বসে থাকাও কোনো বিকল্প ছিল না।”
তিনি বলেন, “ইরান যে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে এগোচ্ছে— তা নিয়ে এখন আর বিতর্কের অবকাশ নেই।”
সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণ:
ইরান ও পশ্চিমা বিশ্ব—বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে ইউরোপীয় শক্তির কৌশলগত অবস্থান, যেখানে জার্মানির মতো রাষ্ট্রও সরাসরি সমর্থন জানিয়েছে সামরিক পদক্ষেপে। ইরান নিজেকে বিজয়ী দাবি করলেও বাস্তবিক প্রেক্ষাপটে পারমাণবিক কর্মসূচি কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে— তা নিয়ে মতবিরোধ রয়ে গেছে।

Post a Comment